Breaking News
Home / ক্রাইম / ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশ কর্তৃক পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষকসহ নিহত দুইজন

ময়মনসিংহে ডিবি পুলিশ কর্তৃক পৃথক বন্দুকযুদ্ধে ধর্ষকসহ নিহত দুইজন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ঃ ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলা এলাকায় পৃথকভাবে গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি’র সঙ্গে কতিথ বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী জনি মিয়া

(২৬) ও গনধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি ধর্ষক জহিরুল ইসলাম (২০) নামে দুই যুবক নিহত হয়েছে। ডিবি পুলিশের দাবী নিহত জনি মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী ছিলেন। সে

নগরী পাটগুদাম এলাকার মোঃ জয়নাল আবেদীনের ছেলে বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইসহ প্রায় ১১টির অধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাত পৌনে ১ টার দিকে নগরীর

শম্ভুগঞ্জের চরপুলিয়ামারী ও রাত দুইটায় ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কালাহদহ ঈদগাহ মাঠ এলাকায় পৃথক ভাবে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার

ইনচার্জ ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ডিবি পুলিশের একটি টিম সোমবার মধ্যরাতে কোতোয়ালী থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে

গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে নগরীর শম্ভুগঞ্জের চরপুলিয়ামারী এলাকায় কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী অবস্থান করছে। পরে ওই সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের টিম

তাদেরকে আটক করার চেষ্টা করলে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অতর্কিতভাবে গুলি ও ঢিল মারতে থাকে। এতে পুলিশের সদস্য আহত হয়।

তিনি আরো বলেন, পরে পুলিশ সরকারি সম্পদ ও আত্মরক্ষার্থে শর্টগানের ১৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীরা গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়।

এ সময় পলাতক মাদক ব্যবসায়ীদের ছোড়া গুলিতে মোঃ জনি মিয়া (২৬) নামে অন্য এক মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী যুবক ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরতর আহত হয়। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ

মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ২০০ শত গ্রাম হেরোইন, ১টি ষ্টিলের চাকু ও শর্টগানের ১৪ রাউন্ড

গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই যুবকের বিরুদ্ধে ৩ টি মাদক মামলাসহ ১১ টিরও অধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ডিবি ওসি মো. শাহ কামাল আকন্দ আরো জানান, অন্যদিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার গণধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল ইসলাম (২০) ডিবি পুলিশের সঙ্গে কতিথ বন্দুকযুদ্ধে

নিহত হয়েছে। গত ৩ আগস্ট রাত ৮ দিকে উপজেলার পলাশতলী এলাকায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে তিনজন মিলে জোরপূর্বক গনধর্ষণ করে। এসময় ভিকটিম অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে ফেলে রেখে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা হয়।

তিনি আরও বলেন, মামলা হওয়ার পর সোমবার মধ্যরাত দুইটার দিকে গ্রেফতার অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদ পেয়ে উপজেলার কালাদহ ঈদগাহ মাঠের সামনে যায় ডিবি

পুলিশ। তখন ধর্ষণকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে শটগানের গুলি বের করলে আসামিরা

দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ সময় জহিরুল নামে একজন আসামিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে নেওয়া

হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। সে উপজেলার কৈয়ারচালা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের

ছেলে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আক্রাম হোসেন ও কনেস্টেবল মতিউর রহমানসহ ৪ জন পুলিশ সদস্য

আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশলাইন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ০৫, ২০১৯

Check Also

মুক্তাগাছা মানকোন ইউনিয়নে আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন আহবায়কের উপর সন্ত্রাসী হামলা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ঃ ময়মনসিংহে মুক্তাগাছা উপজেলায় ৬নং মানকোন ইউনিয়নের আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়ার যুগ্ন আহবায়ক মোঃ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *