Breaking News
Home / অর্থনীতি / ময়মনসিংহে চাউল নিয়ে চালবাজি ভোক্তাদের ভোগান্তি

ময়মনসিংহে চাউল নিয়ে চালবাজি ভোক্তাদের ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ময়মনসিংহের চাউল ব্যবসায়ীরা চাউল নিয়ে চাল বাজি শুরু করেছেন। রাতারাতি চাউলের দাম বাড়িয়ে ব্যবসায়ীরা পকেট ভারি করছেন। অন্যদিকে ভোক্তা সাধারণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। গত শনিবার দি চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্টি নগরীর জুবলীঘাট কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় চাউলের আড়ৎদার ও মিল মালিকরা বাজারে

চাউলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে একে অন্যকে দোষারুপ করে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরে। এ নিয়ে হট্ট্রগোল শুরু হয়। পরবর্তীতে চেম্বার অব কমার্স এর নেতৃবৃন্দের হস্থক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। করোনা ভাইরাসকে কেন্দ্র করে

সুবিধাভোগী ও অধিক মুনাফাভোগী চাউল ব্যবসায়ীরা আকষ্মিক ভাবে চাউলের মূল্য প্রতি কেজিতে ১০টাকা থেকে ১৫ টাকা বাড়িয়ে দেন। নগরীর ব্যবসায়ীক প্রাণ কেন্দ্র মেছুয়া বাজারে আজ রবিবার বাজার ঘুরে চাউলের মূল্য বৃদ্ধির প্রমান

পাওয়া গেছে। ৫০কেজির স্বর্ণা চাউল প্রতিবস্তা ১৮৫০টাকার স্থলে ২১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর ২৮/২৯ চাউল ৫০ কেজির বস্তা ১৯০০ টাকার স্থলে ২২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাল ২৫কেজির বস্তা ১২৫০ টাকার স্থলে ১৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। নতুন বাজারের অবঃ সরকারি কর্মচারি আব্দুর

রহিম মিয়া, তোতা মিয়া, বাঘমারার মোঃ খলিলুর রহমান, কৃষ্টপুরের আব্দুল হালিমসহ বেশ কিছু খরিদদারের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা বিআর ২৯ চাউল ৫০ কেজির বস্তা

২১৫০টাকা দিয়ে কিনেছেন। এ ধরনের আরো ৭/৮জন ভোক্তা বাজারে চাউল কিনতে এসে চড়া দামে কিনেছেন বলে জানান। ময়মনসিংহ চাউল আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিধু ভুষন সাহার সাথে কথা বলে জানা যায় গত দুই তিন দিন খুচরা বাজারে চাউলের মূল্য বেড়ে ছিল। পাইকারী বাজারে দাম বাড়েনি। বর্তমানে পাইকারি বাজারে চাউল এর মূল্য

স্বাভাবিক রয়েছে। ময়মনসিংহ চাউল আড়ৎ সমিতির ২০জন সদস্য রয়েছে। আজ রবিবার বাজারে মোট চাউলের মজুদ ছিল প্রায় ১২৬৮ মেট্রিক টন। প্রতিদিন চাউলের চাহিদা রয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টন। প্রতি চাউলের আড়ৎদার

সরকারি নিদের্শনা মোতাবেক ৩০০টন চাউল মজুদ রাখতে পারে। সেই হিসাব অনুযায়ি আড়তে মজুতের পরিমান কম রয়েছে। বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মালিক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখা সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, ময়মনসিংহে ছোট বড় চারশতাধিক মিল রয়েছে। মিলে চাউলের কোন ঘাটতি নেই। বিপুল পরিমান চাউল মজুদ রয়েছে। অনেক আড়ৎদারও চাউল কিনে মজুদ করে রেছেছেন। কোন মিল মালিক চাউলের বাজার বৃদ্ধি করেনি। পূর্বের ন্যায় স্বাভাবিক রেইটে চাউল বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু আড়ৎদার ও লোভি ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে

চাউলের বাজার অস্বাভিকভাবে বাড়িয়ে ছিল। লোভি চক্রটি প্রতি বস্তায় ৩০০/৪০০ টাকা অতিরিক্ত দাম নিয়ে ভোক্তাদের সাথে প্রতারনা করছে। ময়মনসিংহে হেজবুল্লাহ রোডে ৭/৮জন আড়ৎদার এ বাজারকে ঘোলা করছে। এরা কালোবাজারী ও সুবিধা ভোগী। গুদামগুলো সরেজমিনে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে। এ সময়ে তিনি আরো বলেন, বিধু বাবু, প্রদ্রীপ বাবু, দিলীপ বাবুসহ ৬/৭ জনের কাছে যে পরিমান চাউল মজুদ আছে তা দিয়ে ১৫ দিন চলবে ।

বাংলাদেশ অটো মেজর এন্ড হাসকিং মালিক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক হাজী এরশাদ আলীবলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমানে ধান ও চাউল এর মজুদ রয়েছে। এ নিয়ে উৎবিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই। চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির এর সহ-সভাপতি বাবু শংকর সাহা

বাজার নিয়ন্ত্রন ও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করছেন এবং ব্যবসায়ীদেরকে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ভোক্তাদের হয়রানি না করার জন্য আহবান জানান।

সর্বশেষ আপডেটঃ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ২২, ২০২০

Check Also

ময়মনসিংহের প্রথম শ্রেণীর নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্যাট এর নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং

স্টাফ রির্পোটার ঃ ময়মনসিংহের প্রথম শ্রেণীর নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্যাট তামান্না রহমান জুতির নেতৃত্বে আজ বুধবার দুপুরে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *